কীবোর্ড এ যে যত বেশি দক্ষ, সে তত বেশি এগিয়ে । কীবোর্ড সকল কম্পিউটার ব্যবহারকারি, ব্যবহার করে থাকে। কীবোর্ড ছাড়া কম্পিউটারে কাজ করা প্রায় অসম্ভব।
কীবোর্ড কম্পিউটারের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং অবিচ্ছেদ্দ অংশ। এখন আমরা আলোচনা করব কীবোর্ড কী ? কীবোর্ড কত প্রকার ও কি কি? কীবোর্ড এর পরিচিতি? এই সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেব। তাহলে চলুন শুরু করা যাক…
📱 Play Store ► Download apps from Google Play:- Learn Keyboard
কীবোর্ড কি?
কীবোর্ড হলো কম্পিউটারের একটি ইনপুট ডিভাইস। যার মাধ্যমে কম্পিউটারে তথ্য, উপাত্ত এবং বর্ণ ইনপুট দেওয়া হয়, এ জন্য কীবোর্ড ব্যবহৃত করা হয়। এবং এটি এমন একটি ইনপুট ডিভাইস যাকে ছাড়া একটি কম্পিউটারকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন ধরনের কাজ করার জন্য কম্পিউটারের কীবোর্ডে বিভিন্ন ধরনের কী (Key) রয়েছে।
কীবোর্ড কাকে বলে?
কোনো কম্পিউটারকে টেক্স ও কমান্ড লিখে কোনো ইনপুট দেওয়ার জন্য, যে ডিভাইসটি ব্যবহার করা হয়, তাকে কীবোর্ড বলে। এটি এমন একটি ইনপুট ডিভাইস যা কম্পিউটারের সবথেকে বেশি ব্যবহারযোগ্য ইনপুট ডিভাইস। যার আলাদা আলাদা কী এর মাধ্যমে, কম্পিউটারকে বিভিন্ন ধরনের ইনপুট দেওয়া যায়।
কীবোর্ড এর পরিচিতি
কীবোর্ডে ৮৪ থেকে ১০১টি বা কোন কোন কীবোর্ডে ১০৪ থেকে ১১০টি কী থাকে। ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে কীবোর্ডকে মোটামুটি ৫টি ভাগে ভাগ করা যায়।
1. ফাংশন কী
2. অ্যারো কী
3. আলফাবেটিক কী বা আলফা-নিউমেরিক কী
4. নিউমেরিক কী বা লজিক্যাল কী
5. বিশেষ কী বা কমান্ড কী
ফাংশন কী
কীবোর্ডের উপরের দিকে বাম পার্শ্বে F1 থেকে F12 পর্যন্ত যে কীগুলো আছে তাদের কে ফাংশন কী বলে। এদের কে ফাংশন কী (Key) বলার কারণ এদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু কাজ করা হয়।
অ্যারো কী
বড় কীবোর্ড গুলোতে ডান দিকে নিচে আলাদ ভাবে চারটি কী থাকে, ল্যাপটপ কীবোর্ড বা ছোট কীবোর্ডে শিপ্ট কী এর নিচে এই কী গুলো থাকে। কী গুলোর উপরে অ্যারো বা তীর চিহ্ন দেওয়া থাকে। যা দিয়ে খুব সহজেই কার্সরকে ডানে, বামে, উপরে এবং নিচে সরানো যায়। এগুলিকে আবার এডিট কীও বলে। কারণ টেক্সট এডিট করার কাজেও এ কীগুলো ব্যবহার করা হয়। আবার অনেক সময় ট্যাক্স/কন্টেন্ট মার্ক করার সময় এই কী গুলো ব্যবহার করা হয়।
আলফাবেটিক কী
কীবোর্ডের যে অংশে ইংরেজি বর্ণমালা থাকে A থেকে Z পর্যন্ত মোট ২৬টি কী সাজানো আছে সেই অংশটিকে আলফাবেটিক সেকশন বলে।
নিউমেরিক কী বা লজিক্যাল কী
কীবোর্ডের উপরে ফাংশন কী এর নিছে ০ থেকে ৯ পর্যন্ত সংখ্যা লেখা যে কীগুলো রয়েছে তাকে নিউমেরিক কী বলে। এখানে +, -, *, / প্রভৃতি অ্যারিথমেটিক অপারেটর থাকে। এছাড়াও <, >, = লজিক্যাল অপারেটরগুলো কী বোর্ডে থাকে।
বিশেষ কী
উল্লেখিত কী গুলো ছাড়া কীবোর্ডে আরো কী রয়েছে, অন্যান্য কী সমূহ কোনো না কোনো বিশেষ কার্য সম্পাদন করে বলে এদেরকে বিশেষ কী বলা হয়-
Esc : এই কী এর সাহায্যে কোন নির্দেশ বাতিল করতে হয়। এর অবস্থান সাধারনত বামপাশে উপরে যা আসলে escape নামে পরিচিত এবং এর কাজ হচ্ছে অনাকাংক্ষিত কোন উইনডো এলে তাবে escape বা বাতিল করা । হতে পারে ভুল করে ক্রোস বাটনে চেপেছেন, কম্পিউটার আপনার কাছে জানতে চাইলে আপনি সত্যিই ক্লোজ করবেন কীনা । ক্লোজ করতে না চাইলে সোজা চাপুন Esc বাটন।
Tab : অবস্থান সাধারনত Caps Lock এর উপরে । কারসর কে একটি নির্দিষ্ট দুরত্বে সরিয়ে নিতে কিংবা কারসর কে এক এক ঘর থেকে অন্য ঘরে নিতে এটির ব্যবহার হয় । ধরুন আপনি একটি ওয়েব ফর্ম পুরোন করছেন । হতে পারে আপনি একটি ইমেইল একাউন্ট খুলছেন , তো সেখানকার এক ফিল্ড থেকে অন্য ফিল্ড এ কারসর নিয়ে যেতে আপনি চাপতে পারেন tab key। আর টেবিল এ ডাটা প্রবেশ করানো কিংবা এক্সেল এ দ্রুতো ডাটা প্রবেশ করাতেই কাজে লাগে ট্যাব কী। ওয়াডে একটি প্যারাগ্রাফ Increase Indent করতে চান তাহলে ট্যাব কী ব্যবহার করা হয়।
Caps Lock : ইংরেজিতে কোন কন্টেন্ট বা প্যারাগ্রাফ বড় হাতের অক্ষরে লিখতে Shift ব্যবহার করা হয়, Shift চেপে ধরে লিখতে অনেক সময়ের দরকার হয়। আর সে কাজটা সহজ করার জন্য Caps Lock ব্যবহার করা হয়। এক বার এ কী চপলে পরবর্তি আবার না চাপা পর্যন্ত এটি বড় হাতের অক্ষরে কাজ করবে। এই কী অন থাকলে কীবোর্ডের ডান পাশে কোণায় ছোট একটি বাতি জ্বলে বা কী-টার উপরে একটা লাইট থাকে তা জ্বলে।
Shift : ওয়ার্ডের মধ্যে বা শুরুতে বড় অক্ষর টাইপ করতে এই কী ব্যবহার করা হয়। যেমন : Learn Ally শব্দ দু’টি লিখতে প্রথম অক্ষরে শিফ্ট কী চেপে ধরে এবং পরের অক্ষরগুলো শিফ্ট কী ছেড়ে দিয়ে লিখতে হবে। আর বাংলা বর্ণমালা লেখার সময় এই কী এর ব্যবহার করা হয়। এছাড়া শিফ্ট কী এর সাথে ফাংশন কী চেপে কম্পিউটারকে বিভিন্ন কমান্ড দেওয়া হয়।
Ctrl : এই কী এর সাথে বিশেষ কী একসাথে চেপে কমান্ড দেওয়া হয়। ব্যবহারকারীর সুবিধার জন্য কীবোর্ডের ডানে ও বামে এই কী ২টি থাকে। এই কী দিয়ে আপনি বিশেষ কন্টেন্ট বা প্যারাগ্রাফ মার্ক করতে পারবেন।
Alt : বিভিন্ন প্রোগ্রামে বিভিন্ন নির্দেশ দেওয়ার জন্য এই কী ভিন্ন ভিন্ন ভাবে ব্যবহৃত হয় এবং বিভিন্ন কমান্ড তৈরী করা যায়। ব্যবহারকারীর সুবিধার জন্য কীবোর্ডের ডানে ও বামে এই কী ২টি থাকে। যেমন একই সময় বেশ কয়েকটি উইন্ডো ব্যবহার করলে উইন্ডো সুইচ করতে এই কী ব্যবহার করা হয় Alt + Tab.
Enter : কম্পিউটারে কোন নির্দেশ দিয়ে তা কার্যকর করতে এই কী ব্যবহার হয়। লেখালেখির জন্য নতুন প্যারা তৈরী করতেও এই কী ব্যবহার করা হয়। এক কথায় এটি ok নির্দেশ করে।
Pause Break : কম্পিউটারে কোন লেখা যদি দ্রুত গতির জন্য পড়তে অসুবিধা হয় তা হলে এই কী চেপে তা পড়া যায়। দ্রুত গতির কারনে কীছু পড়তে অসুবিধা হয় তবে Pause Break কী চেপে পড়া হয়।
Print Screen (PrtSc): কম্পিউটারের পর্দার দৃশ্যত যা কীছু থাকে তা সব ক্যাপচার করে নেওয়ার জন্য এই কী ব্যবহার করতে হয়। মানে খুব সহজে স্ক্রীণশর্ট নেওয়া।
Delete : কোনো বাক্য, অক্ষর বা কোনো লেখাকে মুছে ফেলতে এই কী ব্যবহার করা হয় । কোন কীছু মুছে ফেলার জন্য প্রথমে তা সিলেক্ট করে এই কী চাপলেই সব মুছে যাবে।
Home : এই কী ব্যবহার করে কার্সরকে পাতার প্রথমে আনা হয়। তবে MS Word এ কোনো ডকুমেন্ট লেখার সময়ে কার্সর প্রথম পাতায় আনতে হলে Ctrl + Home একসাথে ক্লিক হয়, যদি আপনি শুধু মাত্র কেন প্যারগ্রাফের প্রথমে আসতে চান তাহলে Home কী ক্লিক করলে প্যারাগ্রাফের প্রথমে চলে আসবে।
End : এই কী ব্যবহার করে কার্সরকে পাতার শেষে আনা হয়। তবে MS Word এ কোনো ডকুমেন্ট লেখার সময়ে কার্সর শেষের পাতায় আনতে হলে Ctrl + End একসাথে ক্লিক হয়, যদি আপনি শুধু মাত্র কেন প্যারগ্রাফের প্রথমে আসতে চান তাহলে End কী ক্লিক করলে প্যারাগ্রাফের শেষে চলে আসবে।
Page Up (pg up): এই কী ব্যবহার করে কার্সরকে উপরের দিকে উঠানো হয়। Shift + page up চাপলে উপরে একটি প্যারাগ্রাফ মার্ক হয়ে যায়।
Page Down (pg dn): এই কী ব্যবহার করে কার্সরকে নিচের দিকে নামানো হয়। Shift + page Down চাপলে নিচের একটি প্যারাগ্রাফ মার্ক হয়ে যায়।
Insert : কোন লেখার মাঝে কোন কীছু লিখলে তা সাধারণত লেখার ডান দিকে লেখা হয়, কীন্তু এই কী চেপে লিখলে তা পূর্ববর্তী বর্ণের উপরে ওভার রাইটিং হয়। কাজের শেষে আবার এই কীতে চাপলে পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়।
BackSpace : কোন লেখার পিছনের অংশ মুছে ফেলতে এই কী ব্যবহার করা হয়। আবার কোন ট্যাক্স বা প্যারাগ্রাফ মার্ক করে এই কী ক্লিক করলে সব মুছে যাবে।
Space Bar: প্রতিটি কীবোর্ডে এই টি অন্য কীগুলো থেকে সবচেয়ে লম্বা। কোন বাক্য লেখার সময় শব্দের মাঝে ফাঁকা রাখার জন্য এই কী ব্যবহার করা হয়। মানে দুইটি শব্দকে আলাদা করে এই কী।
Num Look : এই কী চাপা থাকলে ডান দিকের নিউমারিক কী গুলো চালু হয়। মানে ডান পাশের নাম্বার প্যাট চালু হয়। এই কী অন থাকলে কীবোর্ডের ডান পাশে কোণায় উপরে একটি ছোট একটি বাতি জ্বলে।
কীবোর্ড লেআউটের প্রকারভেদ
আমাদের টাইপিং করা সকল ডাটা কম্পিউটার এর কাছে সঠিকভাবে পৌছে দেয়ার কাজ করে তা হলো কীবোর্ড। কীবোর্ড মূলত তিন প্রকার। যথা-
- QWERTY Keyboard
- AZERTY Keyboard
- DVORAK Keyboard
বর্তমান সময়ে, বিশ্বের আলাদা আলাদা দেশে তাদের নিজের লিপি এবং ভাষা হিসেবে কীবোর্ড লেআউটের বিকশিত করেছেন।
- QWERTY Keyboard Layout
- Non-QWERTY Keyboard Layout
- AZERTY Keyboard
- DVORAK Keyboard
চলুন, প্রত্যেকটি কীবোর্ড সর্ম্পকে বিস্তারিত ভাবে জেনে আসি…
১। QWERTY Keyboard Layout
এই ধরনের লেআউট পৃথিবীতে সব থেকে বেশি ব্যবহৃত হয়, এ কীবোর্ড সবথেকে বেশি জনপ্রিয়। আপনি একবার আপনার কীবোর্ডের দিকে লক্ষ্য করুন কীবোর্ড এর উপরের বাম দিক থেকে ডান দিক পর্যন্ত প্রথম ৬ টি অক্ষর Q W E R T Y এই ৬ টি অক্ষর কে QWERTY বলে।
এটা বিশ্বজুড়ে সব থেকে অধিক প্রচলিত এবং অধিক ব্যবহার হওয়া কীবোর্ড লেআউট। আধুনিক কম্পিউটার কীবোর্ড গুলোর ক্ষেত্রে এই লেআউট ব্যবহূত হয়ে থাকে। এখন শুধু কম্পিউটার না, স্মার্ট ফোনেও একই লেআউট এর QWERTY কীবোর্ড রয়েছে।
QWERTY Keyboard Layout এর ওপরে ভিক্তি করে কীছু কীবোর্ড লেআউট রয়েছে
- QWERTY
- QWERTZ
- AZERTY
- QZERTY
২। Non-QWERTY Keyboard Layout
যেসকল কীবোর্ডের কীগুলো QWERTY Layout মত নয়, সেই সকল কীবোর্ড লেআউট গুলোকেই Non-QWERTY keyboard layout বলা যেতে পারে। যেমনঃ বাটন ফোনের কীবোর্ড।
কিছু Non-QWERTY Keyboard Layouts এর উদাহরণ
- Dvork
- Colemak
- Workman
৩। AZERTY Keyboard Layout
এই ধরনের কীবোর্ড গুলি ফ্রান্সে অর্থাৎ ইউরোপের দেশগুলোতে বেশি ব্যবহার করা হয় । এই কীবোর্ড ইউরোপ ও ফ্রান্স এর অনেক স্থানে বেশি ব্যবহার হয়। এটির লেআউটি ফ্রান্সে Developed করা হয়েছে এবং সে জন্য এটিকে Standard ফ্রান্স কীবোর্ড নামে অভিহিত করা হয়েছে। কীবোর্ডের উপরে বাম দিক থেকে ডান দিক পর্যন্ত A Z E R T Y এই ৬ টি অক্ষর কে AZERTY বলে। অর্থাৎ QWERTY Keyboard এ বাম দিক থেকে ডান দিক পর্যন্ত যে ৬ টি অক্ষর ছিল তার জায়গায় AZERTY Keyboard এর অক্ষরগুলি থাকে। এগুলো ছাড়াও QWERTY কীবোর্ডে M কী টি শেষ Row তে Right Site এর দিকে শেষ থাকে এবং AZERTY কীবোর্ডের M কী টি মাঝখানের Row তে ডান দিকের শেষে থাকে।
৪। DVORAK Keyboard Layout
QWERTY Keyboard layout থেকে টাইপিং স্পিড বাড়ানোর জন্য এধরনের কীবোর্ড ডিজাইন করা হয়েছিল। 1936 সালে Dr। August Dvorak এবং William Dealey এ ধরনের কীবোর্ড ডিজাইন করেছিলেন । এটি ডিজাইন করা হয়েছে যাদের কীবোর্ড আঙুলের চলাচল কম করে, আরও দ্রুত গতিতে টাইপিং করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
কীবোর্ড কত প্রকার ও কী কী?
চলুন তাহলে এবার জেনে নেওয়া যাক Keyboard এর প্রকারভেদ গুলো। আমরা উপরে জানলাম কীবোর্ড এর মূলত ৩ টি প্রকার (QWERTY, AZERTY, DVORAK)। এই ৩ প্রকারের কীবোর্ড গুলো বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তন করা হয়েছে। কীবোর্ড বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। যেমনঃ
- Flexible Keyboard
- Mechanical Keyboard
- Membrane Keyboard
- Ergonomic Keyboard
- Gaming Keyboard
- Wireless Keyboard
- Multimedia Keyboard
- Handheld Keyboard
- Vertical Keyboard
- Virtual Keyboard
- Projection Keyboard
চলুন তাহলে আমরা এই কীবোর্ডগুলো সর্ম্পকে বিস্তারিত ভাবে জেনে নিই
১। Flexible Keyboard
এই ধরণের কীবোর্ড গুলোর আকার প্রচুর নমনীয় (flexible) হয়ে থাকে। কারণ, সিলিকন এর মতো অনেক নরম পদার্থ দিয়ে এই কীবোর্ড গুলোকে তৈরি করা হয়। এই ধরণের কীবোর্ড গুলোকে আমরা সহজে ছোট আকারে ভাঁজ করে নিতে পারি। Flexible keyboard গুলো প্রোটেবল, তাই নিজের পকেটে বা ব্যাগে ভরিয়ে যেকোনো জায়গাতে এদের নিয়ে যেতে পারবেন। ছোট কম্পিউটার ইউজার এবং ট্যাবলেট ইউজার এই ধরণের কীবোর্ড গুলোর বেশি ব্যবহার করে।
২। Mechanical Keyboard
Mechanical keyboard গুলো হলো এমন কিছু computer keyboard যেগুলোর ক্ষেত্রে, প্রতিটি কী এর নিচে একটি করে সুইচ থাকে। একটি সাধারণ কীবোর্ড এর ক্ষেত্রে এই সুইচ এর জায়গাতে Rubber Membranes গুলো ব্যবহার করা হয়। এই ধরণের keyboard গুলোকে spring key switch এর সাথে তৈরি করা হয়। বর্তমান সময়ে এই ধরণের কীবোর্ড গুলোর চাহিদা প্রচুর। তবে এই কীবোর্ড গুলোর ক্ষেত্রে একটি বিশেষ সমস্যা আছে তা হল টাইপিং করার সময় কীবোর্ড থেকে প্রচুর শব্দ বের হয়।
৩। Membrane Keyboard
এটি এমন একটি কীবোর্ড যেখানে “keys” গুলো আলাদা আলাদা ভাবে পৃথক পৃথক থাকেনা। দেখতে গেলে এই কীবোর্ড গুলো একটি Mechanical keyboard এর সম্পূর্ণ
৪। Ergonomic Keyboard
আমাদের মধ্যে অনেক ব্যক্তি আছেন যারা নিয়মিত কম্পিউটারে টাইপিং এর কাজ গুলো করেন, দেখা গেছে যে তারা ক্রমাগত চাপের কারণে হাতের কব্জির সমস্যায় ভুক্তভুগি হয়ে থাকেন। তাই এই কীবোর্ড গুলোকে মূলত এই সমস্যা গুলোকে নজর রেখে বানানো হয়েছে যাতে ব্যবহারকারীরা তাদের সুবিধার মত কাজ করতে পারেন।
৫। Gaming Keyboard
একটি গেমিং কীবোর্ড তুলনামূলক ভাবে আকারে অনেক ছোট থাকে যেটাকে মূলত গেম খেলার জন্যই তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে অনেকে আছেন যারা কেবল গেমিং এর জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করছেন। আর তাই, এই ধরণের ইউসার দের জন্য কেবল গেমিং প্রয়োজনীয়তা গুলোর ওপরে নজর দিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে গেমিং কীবোর্ড গুলো। একটি standard keyboard এর তুলনায় এই keyboard গুলোতে কম সংখ্যায় keys থেকে থাকে।
৬। Wireless Keyboard
আজকাল প্রায় প্রত্যেকটি জায়গাতেই wireless devices গুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে, আর এখন তো কম্পিউটার মাউস এবং কীবোর্ড গুলোকেও ওয়্যারলেস হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে। একটি wireless keyboard হলো এমন এক ধরণের কীবোর্ড যেটা ইউসারকে computers, tablets বা laptops এর সাথে radio frequencyর সাহায্যে যোগাযোগ করতে হাহায্য করে থাকে। যেমনঃ Wi-Fi, Bluetooth বা infrared technology ব্যবহার করে।
৭। Multimedia Keyboard
একটি multimedia keyboard এর মধ্যে প্রচুর media keys আপনারা পেয়ে যাবেন। যেমনঃ e-mail client এবং Web browser সরাসরি চালু করার জন্য shortcut button, audio playback নিয়ন্ত্রণ করার button ইত্যাদি। মূলত বুঝে নিতে হবে যে, একটি multimedia keyboard এর মধ্যে আলাদা ভাবে কীছু media-control related keys দেওয়া থাকবে।
৮। Handheld Keyboard
Handheld কীবোর্ড গুলো পেশাদার গেমার রা ব্যবহার করে যারা নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে কিছুটা এগিয়ে থাকতে সাহয্য করে। একজন গেমার গেইম খেলার সময় একটি হাত ব্যবহার করে, তাই এই ধরণের কীবোর্ড আপনার কাজে আসতে পারে।
৯। Vertical Keyboard
Vertical keyboard গুলো এক নির্দিষ্ট রকমের কীবোর্ড যেটাকে মূলত ব্যবহারকারীর হাতের চাপ দূর করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এই ধরণের কীবোর্ড গুলো 3D ধারণার ওপরে ভিত্তিক। এই কীবোর্ড গুলো দুটো ভাবে বিভাজিত থাকে।
১০। Virtual Keyboard
Virtual keyboard গুলো মূলত software-powered keyboard হয়ে থাকে। যেভাবে আপনারা একটি standard keyboard এর ব্যবহার করে কম্পিউটারের স্ক্রিনে কীছু লিখতে পারবেন, ঠিক সেভাবেই এই ধরণের ভার্চুয়াল কীবোর্ড গুলোকে ব্যবহার করেও লিখতে পারবেন। এই কীবোর্ড গুলো মূলত এক ধরণের সফটওয়্যার যেখানে কোনো physical keys থাকে না।
১১। Projection Keyboard
Projection Keyboard গুলো মূলত virtual কীবোর্ড এর একটি রূপ বা প্রকার যেটাকে প্রায় যেকোনো জায়গাতেই ব্যবহার করতে পারবেন। এই ধরণের Keyboard গুলো যেকোনো ফ্ল্যাট এবং হার্ড পৃষ্ঠতলে (surface) Keyboard এর চিত্র/ছবি ও ভিডিও প্রদর্শন করার ক্ষেত্রে লেজার এর ব্যবহার করে থাকে।
কীবোর্ড এর দাম কেমন হতে পারে?
আপনি যদি নরমাল Keyboard (কেবল বা তারযুক্ত) নিতে চান তাহলে ১২০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে Keyboard পেয়ে যাবেন। একটু ভাল বা মিডিয়াম Keyboard নিতে চান তাহলে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে Keyboard পেয়ে যাবেন। ভালো মানের Keyboard নিতে হলে ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা খরচ করতে হবে। তবে Keyboard এর মূল্য company অনুযায়ী হয়ে থাকে। যত ভালো কোম্পানির Keyboard নেবেন, তত বেশি টাকা খরচ করতে হবে।
আর যদি wireless বা তার বিহীন Keyboard নিতে চান, তাহলে ১০০০ টাকার ওপর, আপনাকে খরচ করতে হবে। যত ভালো কোম্পানির Keyboard নেবেন, তত বেশি টাকা খরচ করতে হবে।
কম্পিউটারের সাথে কীবোর্ড সংযোগ কীভাবে করবেন?
আপনি যদি কম্পিউটারে, কীবোর্ড লাগাতে চান তাহলে Keyboard এর USB পোর্ট টি, কম্পিউটারের যেকোনো পোর্ট এর মধ্যে লাগিয়ে দিন। এরপর, আপনার কীবোর্ড এর Num Lock/Caps Lock/Scroll Lock কী থেকে যে কোন একটা কী ক্লিক করেন যদি লাইট জ্বলে ওঠে তাহলে আপনার Keyboard Connection সফল হয়েছে।
আর যদি আপনি Wireless Keyboard লাগাতে চান তাহলে কীবোর্ড এর একটা খোলা USB আছে সেটি আপনার কম্পিউটারে যেকোন USB পোর্ট লাগিয়ে নেন তারপর Blutooth এর সাহায্যে Keyboard টির Connection করে নিন।
এতক্ষণ আমরা কীবোর্ড সর্ম্পকে জানলাম। চলুন কীবোর্ড সর্ম্পকে কিছু প্রশ্ন দেখি
১। কীবোর্ড আবিষ্কার করেন কে?
উত্তরঃ Christopher Latham Sholes
২। কীবোর্ডর কী (key) কয়টি ?
উত্তরঃ কোন কীবোর্ডে ৮৪ টি আবার কোন কোন কীবোর্ডে ১০৪ - ১১০ টি key থাকে।
৩। কীবোর্ড কী ধরনের ডিভাইস ?
উত্তরঃ ইনপুট ডিভাইস।
৪। একটি কীবোর্ড এ কয়টি ফাংশন-কী থাকে?
উত্তরঃ একটি কীবোর্ডে ফাংশন-কী ১২টি।
৫। কীবোর্ডর কন্ট্রোল কী-র সংখ্যা কয়টি?
উত্তরঃ কীবোর্ডেব কন্ট্রোল কী-র সংখ্যা ২টি।
কম্পিউটার কীবোর্ড সম্পর্কে উপরের আলোচনা কেমন লাগলো অবশ্যই আপনারা নিচে কমেন্ট করে জানাতে পারেন ধন্যবাদ। আমাদের আলোচনা আপনার ভালো লাগলে প্লিজ অন্যের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না । আর আমাদের সাথে কানেক্ট থাকতে এবং রেগুলার পোষ্ট আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন। নতুন নতুন ভিডিও পেতে Subscribe করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল।

